ভারতের ডিজিটাল বিপ্লবে নতুন পালক: ৫০০টি শহরে চালু হচ্ছে উচ্চগতির ‘সেক্সট জি’ (6G) টেস্টিং বেড

উচ্চগতির ৬জি প্রযুক্তি ও ভারতের ভবিষ্যৎ

ভারতের ডিজিটাল পরিকাঠামোকে বিশ্বের প্রথম সারিতে নিয়ে যেতে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ গ্রহণ করল কেন্দ্রীয় সরকার। ২৩ মে ২০২৫ তারিখে জাতীয় প্রযুক্তি পোর্টাল থেকে জানানো হয়েছে যে, দেশের অন্তত ৫০০টি শহরে উচ্চগতির ৬জি প্রযুক্তির (6G Technology) টেস্টিং বেড স্থাপনের কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। ৫জি-র সাফল্যের পর এই নতুন প্রজন্মের নেটওয়ার্ক পরিষেবা ইন্টারনেট ব্যবহারের সংজ্ঞা পুরোপুরি বদলে দেবে বলে মনে করা হচ্ছে।

​ভারতের টেলিযোগাযোগ মন্ত্রকের মতে, ৬জি প্রযুক্তি ৫জি-র তুলনায় প্রায় ১০০ গুণ বেশি দ্রুত গতিসম্পন্ন হবে। এটি কেবল স্মার্টফোনের গতি বাড়াবে না, বরং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), রোবোটিক্স এবং স্বয়ংক্রিয় গাড়ি চলাচলের ক্ষেত্রে এক নতুন বিপ্লব নিয়ে আসবে। এই টেস্টিং বেডগুলোর মাধ্যমে ভারতীয় বিজ্ঞানীরা নিজস্ব প্রযুক্তিতে ৬জি-র ডেটা স্পিড এবং ফ্রিকোয়েন্সি পরীক্ষা করার সুযোগ পাবেন।

উচ্চগতির ৬জি প্রযুক্তি ব্যবহারের সুবিধা

উন্নত এই নেটওয়ার্ক ব্যবস্থার মাধ্যমে মুহূর্তের মধ্যে বিশাল পরিমাণ ডেটা ট্রান্সফার করা সম্ভব হবে। বিশেষ করে টেলি-মেডিসিন এবং দূরশিক্ষার ক্ষেত্রে এটি এক অভূতপূর্ব পরিবর্তন আনবে। প্রত্যন্ত গ্রামের মানুষও ৬জি প্রযুক্তির কল্যাণে দিল্লির বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ পাবেন কোনো প্রকার ল্যাগ বা যান্ত্রিক গোলযোগ ছাড়াই। এছাড়া মেটাভার্স এবং থ্রিডি হোলোগ্রাম কমিউনিকেশনের মতো আধুনিক প্রযুক্তিগুলো আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের অংশ হয়ে উঠবে।

​সরকার জানিয়েছে যে, এই প্রজেক্টটি সম্পূর্ণ ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে। এর ফলে বিদেশের ওপর নির্ভরতা কমবে এবং ভারতের নিজস্ব টেলিকম সরঞ্জাম রপ্তানির পথ প্রশস্ত হবে। ২০৩০ সালের মধ্যে দেশজুড়ে বাণিজ্যিক ৬জি পরিষেবা চালুর লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে এই কাজ এগিয়ে চলেছে। ডিজিটাল সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে এই পদক্ষেপ এক মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হবে।

Tech Desk

FB X WA