ওয়েবডেস্ক : ভারতের আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, মে মাসের এই সময়টি দেশের বিস্তীর্ণ অংশে তাপপ্রবাহের চূড়ান্ত সতর্কতা জারি হয়েছে। বিশেষ করে দিল্লি, উত্তরপ্রদেশ এবং রাজস্থানের কিছু অংশে পারদ ইতিমধ্যে ৪৫ ডিগ্রি ছাড়িয়ে গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে জাতীয় স্বাস্থ্য পোর্টাল থেকে সাধারণ মানুষের জন্য একটি বিস্তারিত গাইডলাইন প্রকাশ করা হয়েছে, যা বর্তমান সময়ে আমাদের প্রত্যেকের মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি।
চিকিৎসকদের মতে, তীব্র গরমে শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করাই সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ। সূর্য যখন মাথার ওপরে থাকে, অর্থাৎ দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৩টে পর্যন্ত বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে না বেরোনোর পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। যদি বেরোতেই হয়, তবে অবশ্যই হালকা রঙের সুতির পোশাক ব্যবহার করুন এবং ছাতা বা টুপি সঙ্গে রাখুন।
জল পান করার ক্ষেত্রেও বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন। তৃষ্ণা না পেলেও পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পান করতে হবে। শরীর থেকে প্রয়োজনীয় লবণ বেরিয়ে যাওয়ায় ওআরএস (ORS) বা লেবুর জল অত্যন্ত কার্যকর। তবে মনে রাখবেন, অতিরিক্ত ঠান্ডা জল বা কোল্ড ড্রিঙ্কস সাময়িক আরাম দিলেও শরীরের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রার ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে। জাতীয় স্বাস্থ্য পোর্টালে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, চা বা কফির বদলে ডাবের জল বা বাড়িতে তৈরি ঘোল বেশি উপকারী।
খাদ্যাভ্যাসেও বদল আনা প্রয়োজন। এই সময় তেল-মশলাযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা এবং বেশি করে মরসুমি ফল ও সবজি ডায়েটে রাখা দরকার। বিশেষ করে শিশুদের এবং বয়স্কদের স্বাস্থ্যের প্রতি বাড়তি নজর দিতে হবে, কারণ তাদের শরীরে জলশূন্যতা বা ডিহাইড্রেশনের সম্ভাবনা সবথেকে বেশি থাকে। যদি কারোর মাথা ঘোরা, বমি ভাব বা প্রচণ্ড দুর্বলতা অনুভব হয়, তবে দেরি না করে নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করা উচিত।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, বিভিন্ন কর্মস্থলে কর্মীদের জন্য পানীয় জলের ব্যবস্থা এবং বিশ্রামের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। ভারতের মতো দেশে এই ধরণের তাপপ্রবাহ প্রতি বছরই এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। তাই ব্যক্তিগত সচেতনতাই পারে এই প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে।




